html

Showing posts with label সুতপা ঘোষ দস্তিদার. Show all posts
Showing posts with label সুতপা ঘোষ দস্তিদার. Show all posts

Sunday, July 29, 2018

সুতপা ঘোষ দস্তিদার

আত্মঘাতী


সুতপা ঘোষ দস্তিদার


একটু একটু করে প্রায়
পুরো আকাশ দখল করেছে
মেঘ          সেই সকাল থেকে
গুড়ি মেরে আসা প্রেমপ্রত্যাশি কালো পুরুষের বলিষ্ঠ বুকের
তলায় এখন নীলাম্বরী

রসসিক্ত হব বলে
আঁচল পেতে শুয়ে আছি
শুকনো নাবালে
একটুও সবুজ নেই তাই
টিয়ারা আর আসে না কাছে
সেই কবে এক সবুজ টিয়ার
পিছু নিয়ে অচিন কোন
মানবজমিনে পৌঁছে দেখি
সবুজে সবুজ     সে আমার
আঁচলে বুনে দিয়েছিল
সবুজের বীজ      তারপর
আশিরনখর সবুজ হয়ে
নিজেকে হারিয়েছি বহুবার
টের পাইনি জল শুকিয়েছে
কবে ধীরে ধীরে একেবারে।



যা হারিয়ে যায়


ঝিঞে ফুলের হলুদ ঘ্রাণ
মেখে বহুদূরে চলে গেছে
আলো      রেখে গেছে কথা
যেতে যেতে হাওয়ার কানে কানে       তাই কি এত চঞ্চলতা     পাতায় পাতায়
এত কাঁপন?
হা পিত্যেশ বসে আছি
সে কথা শুনব বলে
ঝিঞে ফুলের ঘ্রাণ মেখে
বহুদূরে চলে গেছে আলো
মেপে দেখিনি সে আলোয়
কত ব্যাথা ছিল ।



ভেঙে পড়ার আগে


কত কত ভালোর আশা চেয়ে
এত এত কালো মেখেছি হাতে
কালো হাতে যখন প্রায়
গুছিয়ে এনেছি সংসার
হঠাৎ একদিন  আঁতকে ওঠে সে          আমায় ছুঁয়ো না
তোমার কালো হাতে ।

পা জড়িয়ে ধরি জীবনের
যা কিছু সব তোমার জন্যে
হাতে কালি মেখে আমি
তোমায় রঙিন করেছি
ছেড়ে যেয়ো না আমায়।


কাকস্য পরিবেদনা


স্বজন পরিত্যক্ত ভগ্নপ্রায়
আমাকে জড়িয়ে ধরে শিশুহাত         এখানেই
শেষ নয় সবকিছু
আজের শেষ তো আগামীর
শুরু                ঝাপসা দৃষ্টি
উপরে তুলি          অনাবিল
সাদা হাসি ছড়িয়ে
দাঁড়িয়ে আছে আপাপবিদ্ধ
কালো শিশু
আমি দুই হাত বাড়িয়ে দিই।

Saturday, April 28, 2018

সুতপা ঘোষ দস্তিদার

সিনিয়র সিটিজেন

সুতপা ঘোষ দস্তিদার


পৃথিবীর পুরনো বাসিন্দারা
নির্বিবাদী নিষ্পাপ
ঠিকানা হারাচ্ছে তাদের।
আমি নগরী বিভঙ্গে মজে
ভাজ করে বুক পকেটে
বেদনা যত সৃষ্টিজাত
চেয়ে চেয়ে দেখি আড়চোখে--
পৃথিবীর পুরনো বাসিন্দারা ঠিকানা
হারাচ্ছে ক্রমে

প্রাকজ্যোতিষ ফুলেরাও বেমানান বড় এ সময়ে
উচ্চকিত বর্ণ সমাহারে
আলোকশূন্য জনপদ চাঁদ হাতড়ে
খুঁজে খুঁজে ফেরে তার
জীবনের মানে।
বিন্দু জমে সিন্ধু, ময়লা জমে
পাহাড়
দুঃখ জমে লাভা হবে কবে?
ভিসুভিয়াস ফের পোড়াবে নগরী
দাউ দাউ জ্বালাবে আমাকে।

ছোটবেলা



কাছাকাছি দাঁড়িয়ে ছিল ও
কাছাকাছিই থাকে,   সেদিন
পাশে চলে এসেছিল
আমাকে নিঝুম দেখে
টবে জবা গাছটা
ঠিক কোথায় যে অসুখ
বুঝি না   কেবল দেখি শুকিয়ে যাচ্ছে
ওটার দিকেই তাকিয়ে ছিলাম
অপলক   
আর ডুবে যাচ্ছিলাম নিজের মধ্যে
ও এসে হাত ধরে
যাবি সেখানে? চল না দেখে আসবি
 ছুঁয়ে ছুঁয়ে কথা বলে আসবি
এড়াতে পারিনি, বরং বলা ভাল
 ঠকাতে চাই নি নিজেকে
সেই উঠোন, পেয়ারা গাছ,
আমাকে চেনে শিকড় থেকে মগডাল
পুরনো বাসিন্দার নিশ্বাসে
আহ্লাদী বাতাস ছুঁয়ে যায় রোমকূপ
আমি আর আমার এক্কাদোক্কা ছোটবেলা
 হাত ধরাধরি কিন্তু কোথায়
সব যে উধাও, মস্ত উঠোন
খেলার মাঠ, কড়িবর্গা,রান্নাঘর
কিচ্ছুটি নেই
ও বলল ,হ্যাঁ নেই, তবুও আছে
ছুটতে থাকি,ছুটতে থাকি
পিছন থেকে তাড়া করে
'তবুও আছে, তবুও আছে'
দরজা ঠেলে ঘরে ঢুকে থমকে দাঁড়াই
সামনে বাবা হাসিমুখে
ফোটোফ্রেমে
নেই তবুও আছে

Facebook Comments