html

Showing posts with label দিলীপ ফৌজদার. Show all posts
Showing posts with label দিলীপ ফৌজদার. Show all posts

Friday, November 16, 2018

দিলীপ ফৌজদার

আকষ্মিক লড়াইয়ের এই আখাড়ায়

দিলীপ ফৌজদার

মনখারাপ করা বিকেলকে যদি চিনে দাঁড় করাই, তার প্রোফাইলকে বাডাতে বাডাতে কোথায় বা কোনখানে গিয়ে পৌঁছাই? একা নিজের কাছে থাকলে সর্বত্রগামী দ্রুতগতি মন তার নিজের খেয়ালে যে কোনখানে নিয়ে যেতে পারে। কিন্তু একা থাকতে দেয় না শরীর ও তার ব্যথাবেদনা। মানসিক হোক, শারীরিক হোক নিজের কাছেনিজের একটা বোঝাপড়া এখানে। না, তৃতীয় কোন শরিক সেখানে নেই। একদিকে আমি, অন্যদিকেও আমি। একটা লড়াইয়ের মতই দাঁডিযে যাই মুখোমুখি। যেন আকস্মিক একটা লড়াইয়ের আখাড়ায় কেউ এনে নামিয়ে দিয়ে গেছে। মুখের কাছে মস্ত একটা জানালা, কাচের ওপর চেটান পারদর্শী ধুসরকালো ঝিল্লির ওপারে রোদের রং দেখা যায় না। এইখানেই আমার জগৎ আর রোদবাতাসের জগতের সঙ্গে আমার সম্পর্কেরো ইতি। একটা বিচ্ছিন্নতার বেদনা  ঘিরে থাকে এই বোধের সাথে সাথেই। বাইরে ঘনসম্বদ্ধ গাছেদের একটা জটলা। এক মূহুর্ত মনে হয় কোন অজানা অচেনা জঙ্গলে শুয়ে আছি একা একটা ক্যাপসুলে। জানালার সিনেমাস্কোপের জঙ্গলে যখন তখন আসে যায় নানান পাখিরা। পায়রা, শালিখ, বুলবুলিরা তো আছেই। কখনো আসে কালো, উজ্জ্বল চোখের, বড়োসড়ো একটা ময়না। একা একা সে গান গায় - তার নরম সুন্দর গলার আওয়াজের অল্পই ঐ চোখঢাকা টিন্ট কাচের বাধা টপকে আমার কাছ পর্যন্ত পৌঁছায়। একটা নাদুসনুদুস প্যাঁচা এসে চুপচাপ বসে থাকে - এতো কাছে যে কাচের বাধা ভুলে ভাবি যে ছুঁয়ে ফেলব। ঐ টিন্ট কাচের বিশাল জানালার অবরোধ যেন আমার এই সমযকার অবস্থার সঙ্গেই মানিয়ে গেছে। এই দৃষ্টির কুহক, কিছু দেখা কিছু দেখার অতীত, কিছু শোনা কিছু শুনতে না পাওয়ার উদ্ভটতত্ত্ব আমার ব্যথাযন্ত্রনার বিকল্প হয়ে অদ্ভুত, অলৌকিক এক সময় কাটানোর খেলায় আমাকে নিয়ে আসে।

আমার কুঠুরির ভেতরে যখন কিছু নীরব আনাগোনা শুরু হয় ধবধবে সাদা পোষাকে তখন আবার ব্যথাবেদনারা ফিরে আসে দলবেঁধে। আমাকে ওরা এই যান্ত্রিক বিছানার স্যুইচ টিপে তুলে বসায়। অ্যালুমিনিযামের ফয়েল ছিঁড়ে হলুদ লাল কি সব খাওয়ায় তখনই আবার এটাও দেখি যে ঐ জানালার সিনেমাস্কোপের ঘনসম্বদ্ধ বনস্পতিরা সরে দাঁডিযেছে আর রোদের এলাকা বেড়ে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে একটা ঘাসজমির মাঠ। তাতে 'জগৎ পারাবারের তীরে শিশুরা করে খেলা' - যেন জানালাটাকে আর একটু বাঁয়ে ঠেলে দিলেই দেখব অপার সমুদ্রের ঢেউ আছড়াচ্ছে এই শিশুদেরই খেলার সৈকতে।এরকম ছিমছাম সুন্দর একটা কুঠুরিতে যন্ত্রময় এই বিছানায শুয়ে শুযে একটা ক্ষতবিক্ষত শরীরের দায়কে নিযে, সময়কে নিয়ে, যে কালাতিপাত সেটাও নেহাতই একটা ভোগ আর পাঁচটা ভোগের মতই। আর ছিমছাম পরিচ্ছন্ন এই ঘরের যন্ত্রময়তা তার একান্তই নিজস্ব স্বাভাবিকতায় আমার এই সময়কার যন্ত্রণাময়তার সঙ্গে ঘর পেতেছে। এই শরীরেরই কেজানে কোন অজ্ঞাত জায়গার থেকে বেরিয়ে আসা অজস্র টিউব যন্ত্রমতেই বুঝিয়ে দিচ্ছে শরীর নামক এই যন্ত্রে কোন রহস্যময়তা নেই। সতত  চলমান এই যন্ত্রে ইন্ধন লাগে, নিকাশী লাগে। শরীরের যে জরুরি ব্যবস্থাগুলি প্রকৃতিদত্ত সেগুলি বন্ধ করে রাখতে হলে তার বিকল্প বন্দোবস্তগুলিকেও খাড়া করতে হয। সেগুলো থাকলেই শরীরটাও আছে।
এই বিকেলটা চেনা চেনা। মনখারাপটাও। খুব সহজেই এর একটা নাম দিয়ে ফেলা যায়। খুব উপযুক্ত না হলেও এর সর্বিক নাম একাকীত্ব।

এমনি একাকীত্বের সঙ্গে আরো অনেক রকম অবস্থায় মুখোমুখি হতে হয়। কোনটায় অবাক হওয়া আবিস্কার, কোনটায় পুরোণ লুকিয়ে থাকা দুঃখ আনন্দের সমাহারে গড়ে নেওয়া অপরূপ এক উপাখ্যান।  একটা ছবি ফুটতে ফুটতে আরেকটাকে আমন্ত্রণ জানায়। অনেক পুরনো ভালবাসার মুখ । মনে হয় সবাই যেন আছে। ভালবাসায় ভালবাসায় ঢেকে যায় তীব্র ঈথরের গন্ধ। তার সঙ্গে ঢেকে যায় কে আছে কে নেই জানার বাসনা। উৎসবের ইশারাগুলি কাছে এগোতে চায় তার আগেই বিকৃত শব্দধোঁযার আগুনবাজী অন্য কোন অবস্থায় সঙ্কটের আবর্তে পড়ে ।  তখন ভয়ের জায়গাটায় এসে বসে মুখোমুখি রাক্ষস।  এই রাক্ষসদের একটা তো ব্যথাযন্ত্রনা যেটা লড়াইকে ডেকে আনে। শারীরিক। অন্যগুলো আনে হতাশা,  উৎকণ্ঠা,  থামগুলোয় আজন্মকালের নির্ভরতায় একে একে ধ্বস নামার অসহায়ত্ব, বিচ্ছেদ।

ব্যথাযন্ত্রনার রাক্ষসদের মোকাবেলা করতে কখনো অন্য কোথাও বেড়াতে চলে যাই। মৌমাছিদের বাসা থেকে মধু চুরি করি, খাই।  আকাশে আলো জ্বালায় তারারা, জোনাকিরা। তারারা তো ওখানেরই, ওটাই ওদের বাড়ি। জোনাকিরা ওঠে সিঁড়ি বেয়ে বেয়ে অন্ধকার আকাশে দেওয়ালীর প্রদীপ জ্বালতে। সে প্রদীপ বাস্তবের আলোর চাইতেও অনেক স্নিগ্ধ, অনেক নরম।

ঘুম আর জাগরণের মাঝে মাঝে এমনিতর অনেক কোটর যারা কখনো কখনো জেগে উঠে আমাকেও জাগিয়ে দ্যায়। এই খুপরি খুপরি আলো-অন্ধকারের কোথাও জীবন, কোথাও বেঁচে থাকার আস্থাবোধ, কোথাও কোথাও মৃত্যুর। শুন্য জায়গাগুলো থাকে অন্যত্র কোথাও। বিচ্ছেদ সেখানে একটা বড়সড় গব্হর অধিকার করে থাকে। এগুলোর কোনটাই বিষাদ নয়। সেখানে  নিজেকে জুড়ে না রাখলে সমস্যা একটা আছেই।  এই সমস্যার থলকুল পাই না। আবার কোন রহস্যের অলিগলি ধরে আপনাআপনিই বেরিয়েও আসি। এই আলো-অন্ধকারের অন্তরীক্ষে সর্বক্ষণের থাকা একান্তই নিজের কাছে, সেখানেও অবাক হবার অনেককিছু। একটা গভীর আস্থার রক্ষাকবচ ঘিরে রাখে। কাছ ঘেঁসতে দেয় না নৈরাশ্যকে, হতাশাকে, এমন কি বিষাদ, ভাঙা মনস্থিতির ফাঁকা যে জাযগা জন্ম নিযে বেড়ে উঠার চেষ্টায থাকে তারাও তফাতে থাকে। সবচাইতে যে কথাটা আমাকে কখনোই ছেড়ে যায় না সেটা হোল এই যে এই বিচ্ছিন্নতায়, নিরিবিলিতে, দৌড়হীন, ভাবনাহীন, যেন বেশ আছি।

Sunday, July 29, 2018

দিলীপ ফৌজদার

আলোকবর্ষ

দিলীপ ফৌজদার


যক্ষ শুধাইলেন বার্তা কী?
যুধিষ্ঠির উত্তর করিলেনঃ এই মহামোহরুপ কটাহে কাল প্রাণীসমুহকে পাক করছে, সূর্য তার 
অগ্নি, রাত্রিদিন তার ইন্ধন, মাস-ঋতু তার আলোড়নের হর্বী হোতা। এই বার্তা। বনপর্ব, মহাভারত।


ঐ অতলান্তিক শূন্যের কোন শেষ না থাকলেও ছোঁবার, ভিড়বার কিছু আছে। তুমি যদি ব্যাকটিরিয়া ও তার তুলনায় ওরা যদি মারবেল, কিম্বা নুড়িও যদি হয় তার ওপর ভর করা যায়। তার ওপর একটা কলোনি বসান যেতে পারে।
এর নাম যুক্তি তর্ক । যা যা করা যেতে পারে ও যা কিছু হতে পারে তাই নিয়ে জল গরম বা জল ঘোলা – যা বলবে। কি কি করা যেতে পারে ও তাতে কি কি হতে পারে এই সমস্ত তর্ক পেরোলে তখন কিছু হওয়া। যেগুলো হবার সেগুলো হয়ে গেলে তখন কি?
তখন অন্যরকম। তখন তুমি বাস্তবের ট্রিগার টিপে সময়টাকে পেরিয়ে চলে গেছ। এই ট্রিগার টেপার ব্যাপারটা না থাকলে কিছু চলেও না যে! তুমি ট্রিগার টিপতে পারলে তবেই তুমি মরদ কা বাচ্চা। না পারলেও গরিলাদের স্টাইলএ ছাতি ঠুকে দেশ দুনিয়াকে জানিয়ে দাও যে ওটা তোমারই, একদিন না একদিন ওটা তুমিই টিপবে। যদি তুমি ছাতি ঠুকে মানুষকে বুঝিয়ে ফেলতে পার যে তুমি সত্যি সত্যিই একটা গরিলা অর্থাৎ গরিলাদেরই মতই তুমি অতোটাই অবুঝ আর বুনো, তোমাকে সকলে ভয় করবে তোমার প্রতিষ্ঠা বাড়বে সমাজে, সংসারে।
তুমি সর্বদাই সময়ের একটা ক্ষণে যার আছে একটা স্পষ্ট অতীত, যেটা দৃশ্য, কালকের কথা, পরশুকার কথা – যেটা কালের কবলে পৌঁছে ধুলোময়লায় আক্রান্ত। সর্বদাই। কিছুটা চোট খাওয়াও, ফলে বিকৃতি বিস্মৃতির ডামাডোলে ভ্রান্ত এবং উদ্ভ্রান্তও – আর আছে একটা ভবিষ্যৎ যার পাতা উলটে কেউ দেখতে পায় না। তাও থাকে কিছু বুজরুক যারা ভবিষ্যৎ দেখানর নামে বিশ্বময় কিছু উপার্জনের বাজার খুলে রেখেছে। দুয়ের মাঝখানকার ভাসন্ত ক্ষণ টপকে টপকে তুমি সময়ের কেঞ্চুকি খুলে খুলে দ্রুত হেঁটে এগোচ্ছ একটা অন্ধকার অন্তরীক্ষে। 
এই যেমন ধরো তুমি ব্যাকটিরিয়া না হয়ে হলে অন্য কিছু। ধরো তুমি মানুষ। তাই বা মেনে নিলাম যদিও তুমি অমানুষ হলেও সেখানে কিছু যায় আসে না. সেখানে কিছু বলারও নেই। মানুষের নামে অমানুষ সে তো অনবরতই। তা সেই দুপেয়ে জানোয়ার সেটা তুমিই যদি হও তখন্ আবার নানান উপসর্গ তার আশেপাশে নানান শর্ত এসে জোটে তুমি তখন অন্য মানুষদের রাডারে আর শুধু মানুষ কেন, যা কিছুই তোমার আশেপাশে ধরো একটা কাক বা কাঠবেরাল কিম্বা মশা, বোলতা বা সাপও, তারা সকলেই তোমাকে খুঁতখুঁতে চোখ নিয়ে দেখবে ভয়ে, অবিশ্বাসে আর সংশয়ে, ভাববে দৌড়ে তোমার নাগালের কাছ থেকে দূরে সরে যাবে না দাঁত খিঁচিয়ে তোমাকে ভয় দেখাবে বা দংশাবে আর এই সব দেখতে দেখতে তোমার ভেতরেও জন্মেছে একটা সতর্কতার শেকল। সর্বত্র। যেটা তোমাকে ঘিরে রেখেছে তোমার সত্ত্বার চারিভিতে যার সমস্তটা তুমি জানও না। এই শেকল নিয়েও নানা কথা কেও বলে ভাঙ্গো কেউ বলে জোড়ো কেউ আবার ওটাকে অনবরতই শক্ত রাখতে চায়। 

 ধরো একটা আলোর মধ্যে আছো। অফুরন্ত, অতলান্তিক আলো। তুমি ভাবছ দেখছি। হ্যাঁ দেখছ কিন্তু সেটা আলো কি? সেটা তো অন্য কিছু একটা ইট কাঠ বা জীবন্ত কিছুকে। একটা উড়ন্ত কাক বা হলুদ বোলতা - একটা সবুজ পাতার পরিক্রমায়। এত কিছুকে যে লোকে দেখা বলে তার একটাও আলো নয়। তবে আলো আছে বলে তুমি জান কেননা তুমি অন্ধকারও জান সেও ওইটুকুই যে অন্ধকার নেই বলেই তুমি দেখছ। কিম্বা বলো অন্ধকার থাকলে তুমি দেখতে না। এই যে নেই আছে আছে নেই এ থেকে কোন কিছুকে আছে বলে জানা, তখন এটাও খেয়ালের বাইরে থাকে যে যদি কেউ হলপ করে বলে আমি দেখেছি তাই আমিই সত্যি এর চাইতে বেশি সত্যি আর কিছু হয় না তখন তাকে বোঝান কঠিন যে এটাও তো হতে পারে যে তুমি দ্যাখনি। দেখার পরতে পরতে থাকে দৃশ্য। এ সমস্তই ঐ আলোকে নিয়েই, বা, অন্ধকারকে নিয়েও। আলোকেই দেখছ না তাও তুমি আলোকপ্রাপ্ত যার জোরে তুমি বুক ঠুকে বলছ তুমি দেখেছ। তোমার দেখাটাও ঐ গনিতের দেখার মতোই।
জোনাকি জ্বলা নেবা আলোকেও তো অনেকে বলে ওটা মগ্ন অলীক, ওটা হিসেবের ধরাছোঁয়ার মাঝখানটায় থাকে, যেমন অন্ধকার আছে বলেই ওটা আলো আর কল্পনা আছে বলেই ওটা জোনাকি – ছুঁয়ে দেখেছি, ধরে নিলে ওটা আর জোনাকি থাকে না ওর সব কবিতা তখন হাপিস।

শূন্য যার আরম্ভ নেই শেষ নেই সেটারও তো কত কাটা ছেঁড়া - আঃ ঐ হল - কাটা ছেঁড়া মানে টেলিস্কোপ আর গনিত, কিন্তু কাটা ছেঁড়া ঐ আলোকে নিয়েই তো। কোন আলো পাঠালাম আর কোন আলো তার কতখানি সম্ভার নিয়ে ফিরে এলো তারই গনিত।
কিন্তু সেখানেও একটা নিরুত্তর সংশয় - সেটা কত দিন, কত মাস, কত বছর আগের আলো! আলো নিয়ে কত কবিত্বময় কল্পনা। কিন্তু আলোর গণিতে কিছু মারাত্মক দূষণ না ছেড়ে রাখলে আলোর কবিতা চারায় না মনে। যদি গনিত বলে অ্যান্ড্রামিডা গ্যালাক্সিতে এক বিশাল আকারের বিস্ফোরণ ঘটে গেছে সে বিস্ফোরণের আলো কতদিন  আগেকার গুনতে বসে সাত দুগুনে চোদ্দর হাতে শুধু পেন্সিলটাই থেকে যায়। বিস্ফোরনের বিশালত্বের বিস্ময়, তার ধ্বংসলীলার ভয়াবহতা, তার আকস্মিকতার ধাক্কা, তার আলোর বিকিরণের সঙ্গে তোমার আবেগের জোড়ন – সব হাপিস।
এক একটা স্বপ্নের কিনারায় অপেক্ষা করে দাঁড়িয়ে থাকে এইরকম অদৃশ্য পাহারাদারেরা সীমান্ত আগলে।  এরাই জানিয়ে দ্যায় এবার তুমি স্বপ্নের বাইরে, আর এটাও যে তুমি স্বপ্নের ভেতরে আর ফিরে যেতে পার না। বাস্তব, ধরা ছোঁওয়া গণিতের জগতও কোথাও কোথাও এমনি স্বপ্নিল।
এখানে আর একবার সীমান্ত ডিঙ্গোনর কথা এলেও এই সীমান্তকে কেউ কোনোদিন ডিঙোয় না। তবুও এই প্রয়াস যে সময়কে পিছিয়ে নিয়ে আর একবার হাতুড়ি ছেনির পূর্বেকার পাথরকে ফিরে পাবার। হতে পারে এ ইচ্ছাটি নির্মল, একান্তই ঐ নির্মল পাথরকে দেখার তাগিদে যদি হয়, যেমন আমরা জানতে চেয়ে এসেছি এতকাল ধরে পৃথিবীর বা মহাকাশের জন্মকথা কিম্বা মানুষের জন্মবৃত্তান্ত। তা যদি না হয় তাহলে এই ইচ্ছার গণিতে আছে কিছু মারাত্মক গরমিল।
ঐ পাথরে নতুন কিছু লেখা যায় না। ঐ পাথরটাই অলীক। যে সময়ের সীমান্ত ডিঙ্গিয়ে চলে এসেছে কাল, সেই সীমান্তরেখা দাগা হয়ে গেছে ইতিহাসে যাকে আজ দেখছি আলোকবর্ষের দুস্তর দেওয়ালকে পেরিয়ে, যেটাকে আর একবার ডিঙ্গোন যায় না।

Friday, April 13, 2018

দিলীপ ফৌজদার

বিকীরণ

দিলীপ ফৌজদার



সময় পেরিয়ে যাওয়ার কথা বলতে নদীর কথা তখন পেরিয়ে যেতে যেতে হেঁটে পেরোনর কাঁটা পায়ে যে বিঁধবে এ সম্বিৎ ভাবনার স্রোতকে ছাপায় না, উশকায় পায়ের তলার হাঁটাপথ যেটায় এখন আর স্রোতের বাধা নেই, এটাকে এখনো নদীই বলবো, এটা স্বভাব, যা মলেও যায় না, এই ধরে রাখা নাম যা পড়ে থাকা বা বিস্মৃত, কিংবা হতে পারে উপেক্ষিতও তবুও কিছু গড়ায়, তবু এই নির্জলা নদীরে নদীই কই আপাতত



মেনে নিলে নকশা ঠিকঠাক মেলে - সমস্ত ভূগোলচিহ্ন, যাবতীয়, সকলেই যে যেমন সে তেমন আপন আপন জায়গায় বসে ছেলেবেলাকার ক্লাসরুমে - সে কালটা কদিন আগের হলেও সুদূর , ঝাপসা - এটা কুয়াশা, ধোঁয়াসা বা ধুঁয়া সা অথবা মস্তিষ্কবিকৃতিজনিত না ভেবে বরং এগিয়ে যাই এই ভাবনায় যে কিছু হারালে বিনিময়ে কিছু আসে  সেটা বিনিময় না ভাবলেই পুরোণো জগতটা ভেঙে যায় নতুন আরেকটা জগৎ আসে জায়গাটার দখল নিতে, শরিকেরা আপন আপন ধর্ম আঁকড়ে ত্বরায়, অধিকারবোধে তুমুল, তুখোড়, 



বিকৃতিরা নাচের নকশা বদলে  গড়ার ঝোঁকে মাতোয়ারা, বুঁদ, এটায় যাঁরা শিব গডতে বাঁদর গড়ার কথা তুলে সোচ্চার হন বক্রোক্তিতে বা উপেক্ষায় তাঁদের অজান্তেই সময় কখন ঘুরে দাঁড়ায়,  সেই তাঁদেরই একেবারে মুখোমুখি, দৃষ্টিকটু অঙ্গভঙ্গি করে, মানুষ জানেনা সুন্দরের জায়গাটার এত বিস্তার সুরূপ পেরিয়ে কুরূপের প্রসারিত মালভূমিতে আরো কত গহন বন সেগুলোরও কোনটা ক্ষয়া কোনটা ভাঙা কোনটায় আরোপিত বিকৃতি তো কোথাও অতি চাইএর দারিদ্র্য, আবার কোনখানে অতি উপেক্ষার দৈন্য



আমরা এখনো নদীকে নদী বলি বনকে বন পাহাড়কে  পাহাড় কোন একটা দেশে গেছি যার সর্বোচ্চ পাহাড় একশ আশি মিটারের তার নাম আকাশপর্বত তার চূড়া পর্যন্ত পৌঁছে গেছে পীচরাস্তা, লোকেরা ওটাকেই পর্বত জানে হিমালয় সেখানে কল্পনায় সাতকাহন আর সেখানে পৌঁছে পাহাড় কাকে বলে একথাটাও মাথায় ঘোরাফেরা করে কিন্তু এটাও সেই ছেলেবেলাতেই  দেখা মুখোমুখি  দাঁডানো খাড়া উত্তুঙ্গ পাহাড়, পথ চলার অভিকর্ষ তাগিদে পায়ে পায়ে মিলিয়ে যায় সব দুর্ধর্ষ অজানা, অহংকারী অনড়, উচ্চতা, তখনও পায়ের তলায় পথ সবকিছুকে ধরে রয়েছে ঠিক যেমন ছিল তেমনিই



তখন বনের ঝোপঝাড়, শালপিয়ালমহুয়া ঘিরে জিজ্ঞাসার প্রকৃতিপাঠ নিয়ে এগিয়ে যাওয়া, চরৈবতি নয় - ওতে যে আহরণ তাতে ক্ষুধার সংস্থানও নিহিত - এই বিচরণের ভবিষ্যতও অজানা নয় উপরে ওঠার কথাটা ঢেকে রেখেছে গাছগাছালি, আর পথও - তার দিকে অনবরতই চোখ রাখতে হয় সেখানে পিচ্ছিল কৌতুক -   সরুমোটা বালি, নুড়ি,  উপলখণ্ড, গডানো পাথরপিণ্ড মায়কি বিশালাকায়  চাঙ্গড় যা পথের বাধা হওয়ায় রাস্তারই ঘুরে যাওয়া মুখ, অনবরতই প্রসারণএর উদারতায় ছড়িয়ে পডা সঙ্কুচনএর সূঁড়িপথে জড়িয়ে পড়া এসব পেরোতে পেরোতে কখন দেখা যায় দিগ্বলযের বেড়ে যাওয়া তার ভেতরে নদী, জমির ওপর বালি দিয়ে আঁকা এ নদী বয় না, নিশ্চল দাঁডিযে থাকে, বোধএ এলো এটাই তাহলে ছিল উন্নতি, তলার জিনিসগুলো এখন তলার



দৃশ্যেরা এরকম স্থির দাঁডিয়ে গেলে মনে হতে পারে সেখানে কেউ ঘড়ির কাঁটাকে আটকে রেখে দিয়েছে তার দুহাত বাঁধা সেই ঘড়িরই দুই কাঁটায অথচ সেই অবিরাম টিকটিক বয়ে চলেছে নিরন্তর এটাও নয় যে সে শব্দ কেউ শোনে না, শোনে নি - হৃদয়ের আওয়াজ কে না শোনে নাড়ীর স্পন্দন কে না ছুঁয়ে দেখে, বার বার, শরীরের অনেক দোলা তাও অচলতা সন্দেহে শুনতে চাওয়া পেণ্ডলামের শব্দ



জমির ওপর স্থির ছবিরা দেয়ালছবি নয কেউ বা কোনটাই, ওদের ধরতে গেলে ধরা দেয ক্যামেরায় বা ক্যানভাসে কেউ মিলিয়ে মিলিয়ে হিসেবের অঙ্ক কষে দেখতে যায় না ছবিদের মিলিয়ে যাওয়া দেয়ালে বা অ্যালবামে তারা গ্রন্থের ভেতরকার মান্যতাপ্রাপ্ত হযে গেলেও জায়গারা কি ওরকম স্থির হয়ে আছে এখনো এ প্রশ্নটা আসেই না, ক্বচিৎ, পরের দেখা ঘটে গেলেও ছবির ভিন্নতা কিছু আপনাআপনিই বলে দেবে না, কেউ এসে না জানিয়ে দিলেও গল্পটা তো চলছিলও, চলছেও, ভেতরকার সব ঘটনা ছবিতে, দেখায়ও লেখা থাকুক বা নাই থাকুক খুঁড়লে তো বেরিয়েই আসে



সব বদলাওতেই নিহিত একটা তাগিদ যেটা মানুষের রামরাজ্যের বা রাবণরাজ্যের - একোহিঁ বাৎ  - কিম্বা জঙ্গুলে রাইফেলদের বা জেদি নতুন খলবলে খুঙ্খার সাম্রাজ্যবাদীদের, এই সব উন্নতি বা বদলে দেওয়ার আত্মপ্রসাদে আক্রান্ত ক্ষমতাবানদের জেদে নতজানু উলঙ্গ তৃষার্ত নদীরা আপন আপন হাড়পাঁজরসহ লোলজিব্হ নখদন্তে করাল দেহভাষায় রাক্ষুসে নাচ দেখাতে এগিয়ে আসছে

Facebook Comments