html

Showing posts with label কৌশিক সেন. Show all posts
Showing posts with label কৌশিক সেন. Show all posts

Friday, November 16, 2018

কৌশিক সেন

কৌশিক সেন

আজ


সূর্য, ভালোবাসা, সুখ, নদী ও নারী -
আজ নয়,
আজ তোর সাথে আড়ি।

দড়ি, কম্বল, আগুন, বিছানা, ভাত -
তুই আর আমি,
তোর সাথে আমি কাটাবো আজকে রাত।

সুগন্ধি তেল, চিরুনি ও গাঁদাফুল –
ভুল হয়ে যাক,
আজ ভুলে ভরে যাক সবকিছু বিলকুল।

মরা কান্না ও পাখিদের কলতান –
সব মিলে মিশে
আজ নয় হোক একই সুরে গাঁথা গান!!




ওরা তিন বোন


ওরা তিন বোন কোন কলোনির মেয়ে
বাপটা কি করে, মাও কি ছিল না ঘরে?
পাড়া পরশি রা জানতে পারেনি কিছুই,
ওরা তিন বোন না খেয়ে কি করে মরে?

কি ভাবে বাঁচলো এতদিন ওরা তিন
কিকরে বেঁচেছে তিন মেয়ে খালি পেটে
বাকি তো সবাই বেঁচে থাকে প্রতিদিন,
এ শহর বাঁচে ওদের অশ্রু চেটে।

ওরা তিন বোন, পেট জ্বলে যায় খিদেয়
ঘরে কি ছিল না একটুও দাল-রোটি!
ওরা না খেলে আমরা কিকরে খাই,
আমরা তো আজ একশো পঁচিশ কোটি।

ওরা তিনজন আমার দেশের মেয়ে
ওরা তিন বোন আমার পাশের বাড়ি,
খিদে পেলে আমি যতবার ভাত মাখি
ওদের আঁসু তে নোনা হয় তরকারি।

রাতে শুয়ে শুয়ে ওদের কান্না শুনি
তিন জোড়া চোখ – স্বপ্নের বারোমাস
এই পোড়া দেশে জন্ম নিস না মা রে!
তোরা তিনবোন পেট ভরে খেতে পাস!




সবুজ ডি টি সি


ওয়ালেট থেকে
খুচরো কালো মেঘ
গুনে গুনে দিয়েছিলাম
কণ্ডাক্টারের হাতে।

ডি টি সির সবুজ বাসটা
উড়ে চলেছিল
আঁধির ভেতর দিয়ে,
লালবাতিতে এসে
প্রচণ্ড জোরে ব্রেক কষেছিল
সবুজ বাস টা
তাল সামলাতে না পেরে
জানলা দিয়ে উড়ে গিয়েছিলাম
ধূসর ধুলোর অন্ধকারে।

আমি এখনও পথ খুঁজে পাইনি,
চোখে ধুলো ঢুকে অন্ধ হয়ে গেছি।
গভীর অন্ধকারে হাতড়ে যাচ্ছি
সবুজ ডি টি সি বাসেদের
উড়বার রুটগুলো...




Saturday, July 28, 2018

কৌশিক সেন

নায়াগ্রা

কৌশিক সেন


তুমি যেদিন ঝরে পড়েছিলে
আমি তখন সবে ঘুম থেকে উঠেছি।
ওয়াশ বেসিনের আঁজলা ভর্তি জল
চোখে ঝাপটা দিলো আমার,
মুছে নিলো চোখের পাতায় লেগে থাকা
রাতভর লালিত স্বপ্নঘোর।
ঘুম এলো না আর।

আমার চোখে জাগল জল তরঙ্গের মূর্ছনা,
অঝোর ধারায় ঝরে পড়লো
চোখ থেকে চোখে, অন্য চোখে
অন্য অন্য চোখে।
আমার ওয়াশ বেসিন উপচে পড়লো
সুপ্রাচীন জলপ্রপাত হয়ে।।



বসুন্ধরা


সাইকেলটাকে রস্সি দিয়ে
কষে বাঁধা ছিল
এক্সপ্রেস ট্রেনের জানলায়,
ভেজা তোয়ালেটা
কখন শুকিয়ে গিয়েছিলো
চলমান জানলার হাওয়ায়।
শুকিয়ে গিয়েছিলো
পাঁচ মাসের পোয়াতি
দেহাতি আওরাতের আঁশু,
দুই বছরের পেটফোলা ছুটকির
নাকের নীচে সিকনির ধারাও
আজ শুকিয়ে কাঠ,
যেভাবে শুকিয়ে যায়
গাঁও ভর ফেলে আসা জমিন
জমিনে ফেলে আসা
সওদা না হওয়া
আনাজ-সব্জির ঢের।
এক্সপ্রেস ট্রেনে
আজ সুখা রোটির মহেক।
এক্সপ্রেস ট্রেনের সওয়ারীরা
তাই খুদখুশি করেনা কোনোদিন।

সিটি সেন্টার থেকে
হাইওয়ের ফ্লাইওভার ডানা গজায়,
মেশে ওই অ-নেক দূরে
ঝাঁ চকচকে বাইপাসে।
ত্রিফলা নিওন লাইটে উজ্জ্বল
ফোর লেন বাইপাসের ডিভাইডার।
বাইপাসটা আসলে
এক্সপ্রেসওয়ে আর হাইওয়ের কানেক্টর,
রাস্তার দুধারে সুসজ্জিত মাল্টিস্টোরেড –
এখন আন্ডার কনস্ট্রাকশান।
হাইওয়ে দিয়ে গাড়ি যাবার সময়
নাক চেপে ধরে
রইস আদমিরা।
বহুত বদবু আসে
পাকা সড়কের কিনারায়।
কারা যেন কাকভোরে চলে আসে,
সকালের কাম সারে,
চুপিসারে
বাইপাসের ধার ঘেঁষে।

দুই বছরের ছুটকি
আড়াই বছরে মা হয়ে যায়,
ছোট ভাইয়াকে পাহারা দিতে হয়
ফাটা পলিথিনের ছাউনিতে।
দেহাতি মেয়েটা মজুর খাটে
হাইরাইজের সাইটে,
রাজমিস্ত্রির জোগালদার ওর আদমিটা।
সূর্য ডুবতেই
সাইকেলে ফিরে যাবে ওরা।
ছুটকি বসে সাইকেলের সামনে
পিছনের ক্যারিয়ারে
কোলে বাচ্চা নিয়ে
দেহাতি আওরাত।

এক্সপ্রেস ট্রেনের গতিতে
ফ্লাইওভারের নীচে ছুটে চলে
সন্ধের সাইকেল।
সাইকেল সওয়ারিরা
খুদখুশি করে না কোনোদিন।।


Saturday, April 7, 2018

কৌশিক সেন

রৌদ্রস্নান

কৌশিক সেন


ঝিকিমিকি বালুকণা খুঁটে খায়
কবিদের দল –
কিছু পরে জলে নামা হবে,
সাদা সাদা ফ্যানাগুলি
ডেকে ডেকে ফিরে ফিরে যায়
কিছু পরে রোদ নিভে যাবে।

সোনা রোদ ভালোবাসাবাসি
সোনাঝুড়ি গাছের ছায়ায়
ছায়া-রোদ কুমীরডাঙ্গা,
ঝলমলে সাগরের তট –
যতদূর দৃষ্টি বোলায়
এ স্বপন যায় না ভাঙা।

কবিরা ভেজেনি কতদিন
ওরা তো ভিজবে বলে আসে,
বৃদ্ধ কাছিম জানে সব –
ঢেউ তো ফিরে ফিরে যায়
তবুও ফিরে ফিরে আসে
বালুতটে ধর্ষিতা শব।

রোদ্দুর যদ্দুর যায়
তদ্দূর কবিদের চলা
লাল কাঁকড়ার দল পায়ে পায়ে,
রোদে ভিজে কাকভেজা ওরা
ডানা মেলে আকাশেতে ওড়া
শুধু, শুধুই তো বাঁচবার দায়ে।।



রঘুনাথতলা


ঠাম্মি, আমায় একবার
রঘুনাথতলার মেলায় নিয়ে যাবে,
মাটির সরায় গুড়ের বাতাসা চরাবো
রঘুকুলপতির শ্রীচরণকমলে।
আট আনা পয়সায়
আকন্দ ফুলের মালা কিনে
পড়িয়ে দেব
শ্রীরামচন্দ্রের গলায়।


রঘুনাথতলার মাথায়
এখন প্রহর গোনে
সিরিয়ার আকাশ,
রাস্তায় ধুলো ওড়ে না আর –
কড়কড়ে বালুকণা চোখে ঢুকে
ঝাপসা করে দেয় দৃশ্যপট।
ভাঙাচোরা জনপদের নীচে
চাপাপড়া
বুকের ভিতরকার ধু ধু মরুভূমি।


ঠাম্মি, আমায় নিয়ে যাবে
রঘুনাথ তলার মেলায়,
পোড়া তেলে, ধুলোমাখা
পাঁপরভাজা কিনে খাবো
টাকায় দুটো করে।
ঠাম্মি, ভেটু ফুলের গন্ধে
ভরে দেবে
আমার রামনবমীর সকালবেলা!


আমার রামনবমীর সকালে
আজ গ্রেনেডের গন্ধ,
বারুদের ওমে ম ম করছে
রান্নাঘরের বাসন থেকে
টুথব্রাশের র‍্যাক,
সকালের শেভিং কিটে
আজ আতঙ্ক নির্যাস!


শুধু একটিবারের জন্য
আমায় রঘুনাথতলার মন্দিরে
নিয়ে যাবে ঠাম্মি!
নোনা ধরা দেওয়ালে
সাদা চুন ফিরিয়ে নেওয়া হয়
রামনবমীর আগে।
মন্দিরের চাতাল থেকে
ভেসে আসবে
বাসি চাঁপাফুলের
মন কেমন করা সুগন্ধস্মৃতি।


সমস্ত দেওয়াল ভেঙে গেছে,
রঘুনাথ মন্দিরের সামনের বিলে
কচুরিপানার ফাঁকে ফাঁকে
অগুন্তি শিশুর লাশ ভেসে বেড়ায়।
পোড়া ধ্বংসস্তূপের ওপর
পোয়াতি কিশোরীটি
পাগলের মতো খুঁজে বেড়ায়
কে তাকে পাপবিদ্ধ করেছে
এতকাল –
দামাস্কাস থেকে ধেয়ে আসা
কালো মেঘ,
নাকি অযোধ্যা নরেশ, দশরথ পুত্র
শ্রীরামচন্দ্র!!



এই তো জীবন


সারা দিন ভালোবাসা আগুনের মাখামাখি
আমরা তো জীবনের গান গাই,
ঘটি-বাটি, চাল-কলা, অবিরাম পথ চলা
কিভ, লাসা, মম্বাসা, বনগাঁয় ।

পথভোলা, ভেজা ছোলা, গুঁড় ছিল পুঁটলিতে
শেষ হয়ে গেছে যতো পারানি,
চোখ কেন ঢুলু ঢুলু, মুখ কেন ফুলুফুলু
এতো নয় গান ঘুম পাড়ানী।

আগুনের সাথে যোগ, স্বপ্নিল সম্ভোগ
মালসায় জ্বলে সুখ- খাদ্য
আমাদের কথা বলা, সাপ-লুডো জুয়া খেলা
পিথাগোরাসের উপপাদ্য।

ঘুরে মরা রাত-ভোর, তুই আমি – আমি তোর
সেই কবেকার চেনা বৃত্ত
তাথৈ তাথৈ নাচা, বেঁচে মরা – মরে বাঁচা
খাঁচা ভরা তাণ্ডব নৃত্য।

আমি খাই তুই খাস, টক-ঝাল সন্ত্রাস
ব্রাশ দিয়ে ঝেড়ে তুলি ধুলো ভয়,
আমি গাই, তুই গাস, কালবেলা মধুমাস
বোকা বোকা আবেগের সঞ্চয়।

রুইতন-হরতন, মন করে চনমন
সফ্ট কপি, নীল-ছবি, শীৎকার,
কাঁধে ঝোলা, কবি ভোলা
অকারনে বুকফাটা চিৎকার।

আমাদের ছোট নদি, স্কেচ করা বুকে যদি
স্বপ্নেও পাবি নারে নিস্তার,
নিউরো বা গাইনি, জ্যোতিষ বা আইনি
দিতে দিতে দেউলিয়া ফিস্ তার।

জীবন টা আজগুবি, মাঝ গাঙে ভরাডুবি
তোরা বস্ নোস মাঝি-মাল্লা,
ওঠা নামা খেলাতে, হেরে যাবি হেলাতে
ছিঁড়ে যাবে চেনা দাঁড়িপাল্লা।

বিদ্যুৎ চমকায়, চান্দেরী বমকাই
সারি সারি শাড়ীদের মেলা ভিড়,
মেলার নাগরদোলা, বুকের দুয়ার খোলা
বরাভয় আছে বুঝি শান্তির!

ঝালমুড়ি চানাচুর, দাল- বাটি চুরমুর
ঝোলাগুড়, রুটি-ভাত-চিনি-নুন,
ভুলে গেছি সব্ কুছ্, অব্ মুঝে মত্ পুছ্
কপালেতে কাঠফাটা ফরচুন।

কত আর বড় হব, আকাশ কে ছুয়ে যাবো
বল ওগো ঈশ্বর কবে আর,
যাপনের দিনগুলো, উড়ে যেন পেঁজা তুলো
কভু সেতো থাকে নাতো আপনার।

তেলাপিয়া, তেল কই, শেষ পাতে মিঠে দই
আগুনের সুখস্বাদ কবেকার,
আজকে পড়লো মনে, কেন কোন কুক্ষনে
সারাদিন খুঁজে হই জেরবার।





অড – ইভন ফরমুলা


আমি অড,
তুমি ইভন।
যেদিন আমি রাস্তায় ছুটে বেড়াবো,
সেদিন দখিন খোলা ব্যালকনিতে
তোমার হাতে
আলসে দিনের পেয়ালা পিরীচ।
যেদিন আমি একলা ঘরের অন্ধকার কোণে
মন খারাপে চুপটি বসে থাকি,
সেদিন তুমি রাজপথে উড়ে বেড়াবে
মুক্তির উদ্বেল আনন্দে।

সে সব দিনে
ছাতি ভরে নিশ্বাস নেবে
কারখানার হুইস্ ল, মন্দিরের ঘণ্টা-
রথের মেলার ভেপু থেকে
ট্রাফিক জ্যামে আটকে পড়া
ব্যাস্ত বাইকের হর্ন।
সে সব দিনে
পাখনা মেলে উড়ে আসবে
রঙিন হোম ডেলিভারি বালকেরা,
আপনার ডোরবেল বাজাবে
নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই।

হাজার হাজার বছরের ধূলি ধূসরিত
ধোঁয়াময় ধূসর কলিজারা
উজ্জ্বল গোলাপি আভায় হেঁসে উঠবে
আমাদের জোড়-বিজোড় শাশ্বত সুত্রমালায়।।


Facebook Comments