html

Showing posts with label পীযূষকান্তি বিশ্বাস. Show all posts
Showing posts with label পীযূষকান্তি বিশ্বাস. Show all posts

Friday, November 16, 2018

তৃতীয় সংখ্যা

দেহ্‌লিজ তৃতীয় সংখ্যা


দেহলিজের তৃতীয় সংখ্যার সময় হয়ে এলো । এই সময়টা বলা যেতে প্রি-কুলিং মোমেন্ট । দিল্লি শান্ত হয়ে এসেছে । চারিদিকে এত পল্যুশন, তাতেও রাজধানীতে রাজনীতির কোন বিরাম নেই । ক্ষমতালোভী আর চেয়ারপ্রিয় মানুষের দিনলিপিকায় একরকম গরমগরমী । কেউ ছত্রিশ, কেউ ছেচল্লিশ বছরের রাজপাঠ নিয়ে কেশর ঝেড়ে তেড়ে আসছেন সাহিত্যের আখড়াতেও । যমুনা কাউকেই ফেরায় না। হিন্ডন ও বয়ে চলেছে মানবজঙ্গলের কংক্রিট নিয়ে । হাইওয়ে চলেছে পবনেপুত্রের গতি নিয়ে দিকবিদিক । সুতরাং একদা এই পৃথ্বীরাজের গ্রিন দিল্লিতে যা বাকি থাকে তা হলো মৃত বহ্নিশিখার হলুদ  আস্ফালন ।  আগুন ছড়িয়ে পড়ছে হাইওয়ের দুপাশের পাঞ্জাবী ধাবায়,  আগুন লেগে আছে তরুণ প্রজন্মের লেখনীর ক্ষুরধারায় , যাকিছু পরবাস, যাকিছু ছিন্নমূলের কথা, তাতেই লেখা হচ্ছে অলিখিত মাইগ্রেটেড জনমানসের  জীবনকথা । দলবাজীতে বাজীমারা  মোটা মাথা মানুষদের কোন ধারণাই হচ্ছে না সাহিত্যে কোথা থেকে উঠে এলো ডায়াস্পোরা চিন্তা ধারা, ভাষা সংকরায়নের বীজ, শাহি দিল্লির মৌলিক অনুষংগ । ইন্দ্রপ্রস্থের উপকণ্ঠে দিল্লির বাংলা সাহিত্যের চোরা স্রোত কখন যে যমুনায় এসে একান্ত নিজস্ব মৌলিক চেহারা  নিয়েছে । খেয়াল করে নাই কেউ ।




দ্বিতীয় সংখ্যার প্রকাশ । চিত্তরঞ্জন ভবন লাউঞ্জ, সি আর পার্ক , নিউদিল্লি ।




একটা কথা যেটা সবার জানা, যমুনা দিয়ে চলে গেছে অনেক ইড্রাস্ট্রিয়াল ওয়েস্ট  মিশ্রিত জল । যমুনার কালো নিয়ে যখন দিল্লির পথযাত্রীগণ নিজেরাই থমকে দাঁড়ায় না, তবে ভিন প্রদেশের চোখে সেই কালোর বৈশিষ্ট্য কি করে ধরা পড়বে ? দিল্লির সাহিত্যকারেরা সত্যিই কি চিন্তিত এই বিষয় নিয়ে ?  নাকি রাজ্য দখলের লড়াইয়ে কাটিয়ে দেবেন নিজেদের বাংলা ও বাঙ্গালী জীবন ? অবশ্য এই কথাও জানবেন , যে কোন উত্থানেই নিহিত রয়েছে সম্ভাব্য পতনের বীজ । সে আপনি পঞ্চাশ বছর রাজত্ব করুন বা পঁয়তাল্লিশ ।

এ হেন একটা পারপ্লেক্সড সিচুয়েশনে একটা প্রশ্ন উঠে আসে ।  দিল্লির বাংলা সাহিত্যটা কি বস্তু ।  আর দেহলিজ কিভাবে তার সঙ্গে যুক্ত ।  প্রশ্নটা স্বাভাবিক । দিল্লি থেকে লেখা সাহিত্য কেই কি বলা যেতে পারে দিল্লির বাংলা সাহিত্য ? 

এটা একটা জবাব হতে পারে । "হ্যাঁ" । কিন্তু সমস্তটা নয় । আর দেহলিজ আর দিল্লির বাংলা সাহিত্যের একটা সীমা নির্ধারণ করা যাক । "হ্যাঁ" আরও একটু সংজ্ঞায়িত করা যাক । 

দিল্লির বাংলা সাহিত্য একটা কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট । সামাজিক ও ভৌগলিক অবস্থান । একটা ইকো-সিস্টেম যা বেড়ে ওঠে বহুস্বরে । ন্যাচারাল প্রসেস । কেউ সেখানে চোখ রাঙায় না, চেয়ার বাঁচানোর জন্য সাহিত্যধারাকে জলাঞ্জলি দেয় না । মতপ্রকাশের অবাধ অধিকার থাকে । কেউ কাউকে ভয় পায় না । ধর্ম, জাতি, ধনী, গরীব, অফিসার কেরানী ভেদাভেদ থাকে না । সাহিত্য ধারনাকে সামনে রেখে বেড়ে ওঠে কমিউনিটি । 


দিল্লির বাংলা সাহিত্য কোন সংঘ নয়, কোন প্রেসিডেন্ট নেই । কোন মাসিক চাঁদা নেই । দিল্লির বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা লেখক কবি নাট্যকারদের কমিউনিটি ফোরাম । সাহিত্য ধারণার আদান প্রদানের স্থান । কখনো অনলাইন, কখনো সাহিত্য আড্ডায় হলো আমাদের মিলন ক্ষেত্র । 


দিল্লির অনুষঙ্গে লেখা সাহিত্যের নাম দিল্লির বাংলা সাহিত্য ।  এর জন্য সত্যিই দিল্লিতে বাস করা বাধ্যতামূলক নয় । দিল্লি অঞ্চলের বাংলা কবি , লেখক, নাট্যকারদের নিয়ে এই সাহিত্য কমিউনিটি গঠন করা হলেও এর মূলে থাকছে সাহিত্যে দিল্লির নিজস্ব স্বাদ ।


কি করে ধরা যাবে দিল্লির নিজস্ব স্বাদ ? কি করে আলাদা করা যাবে দিল্লির বাংলা সাহিত্য ? কিংবা দিল্লির সাহিত্য ও কলকাতার সাহিত্য আলাদা হয় নাকি - এই রকম প্রশ্ন চলে আসছে । কেন এই আঞ্চলিক বিভাজন ?  


বিভাজন তো একটা আছে । বিভাজনটা মানুষ বা দলবাজির নয় । দিল্লির বাংলা সাহিত্য একটা বিশ্বাস । দিল্লিকে বিষয় করে নিয়ে লেখা সাহিত্য । সেটা হতে পারে গল্প, হতে পারে কবিতা, উপন্যাস । দিল্লির পটভূমিকায় আঁকা ছবি, অভিনয় করা নাটক ও হতে পারে ।  দিল্লির ইতিহাস, রাজনীতি, অর্থনীতি, সামাজিক অবস্থান যা যেকোনো দিন ঢাকা বা কলকাতা থেকে আলাদা । সুতরাং দিল্লির অনুষঙ্গ, বিষয়, চিন্তা,  ভূত ভবিষ্যৎ আলাদা হবে । দিল্লির খাবার, দিল্লির পোশাক, দিল্লির স্লোগান আলাদা হবে । এমন কি চুমু খাওয়ার ধরন ও চুমু খাওয়ার সময় ঠোঁটে লবণের মাত্রায় ফারাক নজরে আসবে ।


এখানেই দেহলিজ । এখানেই বিংগো । ডিজিটাল ভবিষ্যতের অঙ্কুরোদগমের অবকাশ । ডকুমেন্টেশন হয়ে ওয়েবে ওয়েবে ছড়িয়ে পড়বে দিল্লির সাহিত্য চিন্তাধারা । লাইব্রেরীর কালকুঠুরীর অতল তলে ধুল খাওয়া পত্রিকায়  উইপোকার খাদ্য না হয়ে গুগল, বিং , ইয়াহু সার্চে উঠে আসবে দিল্লির কবিদের নাম । দিল্লির সাহিত্য নিয়ে আলোচনা হবে ফোরামে ফোরামে ।
  

সুতরাং তা ভাষায় পরিলক্ষিত হবে । দিল্লির বাংলা ভাষা ।  এইটাই দিল্লির সাহিত্যের বীজ, এটাই দিল্লির সাহিত্য চিন্তা । দেহ্‌লিজ সেই সাহিত্য চেতনার প্রকাশ । দিল্লির লেখক, দিল্লির মনের মানুষের মত লেখা নিয়ে দেহ্‌লিজ প্রকাশিত হলো । আপনারাও সামিল হয়ে যান দিল্লির সাহিত্য চেতনার সঙ্গে ।


Contacts:

Group Admin: Pijush Biswas
Email: poet.area@gmail.com
Mob: 09871603930
WhatsApp: https://chat.whatsapp.com/KC7rlh3e6vi2y9sHuj6rhZ
Facebook: https://www.facebook.com/groups/460145007433208/








  

   

দ্বিতীয় সংখ্যা

দেহ্‌লিজের দ্বিতীয় সংখ্যা




দিল্লির পক্ষে দেহ্‌লিজ একটি স্ট্রং পদক্ষেপ । দিল্লির হাতে গোনা লিটল ম্যাগাজিন, ওয়েবজিন, তাদের দুএকটি ম্যাগাজিন ছাড়া প্রায় পত্রিকাগুলি অনিয়মিত, এবং তা চরম ভাবেই স্বাভাবিক । এটাই দিল্লির বাংলা সাহিত্যের বৈশিষ্ট্য । দিল্লির কি নিজস্ব সাহিত্য চরিত্র থাকতে পারে ? সাহিত্যে কি ভৌগলিক বলে কিছু হয় ? যেখানে ভাষাটা এক ।

এ এমন একটা জরুরী বিষয়, যেখানে কোন স্ট্যাম্প মারা সিদ্ধান্ত দেওয়া যাচ্ছে না দিল্লি বাংলা সাহিত্যের কাছে বিরাট কিছু দৃষ্টান্ত, কিন্তু একটা বিশ্বাস তো করাই যায় যে দিল্লির নিজস্ব একটা বিষয় আছে ?  বৃহত্তর বৃত্ত থেকে আলাদা করে ক্ষুদ্রতর গণ্ডির ভিতর কিছু কি সৃষ্টিশীল থাকতে পারে ?

ডায়াস্পোরা নিয়ে কথা হয়, দিল্লির বাংলা শব্দে হরিয়ানভি ঠাট্‌ , বরিশালের গাংচিল আর রংপুরের লালমাটির মত স্পষ্ট । তো জাহির হে, বাংলাকে শুদ্ধ বাংলা বলতে যত প্রয়াসই হোক, আমরা আরাবল্লির মাটির গন্ধকে কি করে ভুলে যাই ?




তাহলে দিল্লি থেকে এতদিন ধরে আর কি লিখছি আমরা ? 

কিছুটা ক্লোন, কিছুটা স্মৃতি,  নাকি ঢাকা কলকাতা থেকে আগত সাংস্কৃতিক চর্চা । এটা দিয়েই শুরু, কিন্তু এইভাবে রিং রোড বরাবর হাঁটতে থাকলে আপনি একটা ডেভিয়েশন দেখতে পাবেন, জলবায়ু থেকে কিভাবে জলীয়বাষ্প উধাও ।  এই শহরে এসে ঘিরে বসেছে  রাজধানী , সি আর পার্ক,  কালকাজী , গোল মার্কেট,  কারোল বাগ, দ্বারকা, মহাবীর এনক্লেভ, নয়ডার বিভিন্ন সেক্টরে বাঙালি কলোনী । ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বাংলা বসতি । লোক মুখে শোনা বাইশ লক্ষ বাঙ্গালির বাস ।  তো এতো বাঙ্গালী দুই দুটো বাংলা(প্র)দেশ থাকা স্বত্বেও এখানে কি করছে ?

যেটা করছে, সেটা উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, কর্ণাটক, বিহারেও করছে ।  যেটা নিয়ে তর্ক সেটা রাজনৈতিক, যেটা নিয়ে সমস্যা সেটা জনসংখ্যা, যেটা নিয়ে প্রশ্ন সেটা খাদ্য আর যেটা নিয়ে যাপন তা হল বাংলা । সুতরাং যেটা হারালো , সেটা দেশ, যেটা আক্রান্ত সেটা ভাষা, আর যেটা নিয়ে বাঁচা তা হল বিশ্বাস , তা হল নিজস্বতা । আমাদের নিজের কি কোন চরিত্র আছে ? 

আছে । বিশ্বাসে মিলায় বস্তু তর্কে বহুদূর । একবার কুতুব মিনারের গায়ে হাত দিয়ে দেখুন, একবার যমুনায় পা ডুবিয়ে দেখুন, এক মধ্য রাতে ইন্ডিয়া গেট, এক দুপুরে খুনি দরবাজা , এক জানুয়ারিতে লোধী গার্ডেন, এক ফেব্রুয়ারিতে হুমায়ুন টমে বোঝা যায় ভারতবর্ষের কৈশোর, ইতিহাসের যৌবন, আর পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্রের অবয়ব রাইসিনা হিলস । এই হল দিল্লি ।   

আর যারা আরাবল্লির মাটির গন্ধ পাননি, যমুনার জলে স্রোতের আওয়াজ শোনেননি, লাল কিলার পাথর ছুঁয়ে ইতিহাস অনুভব করেন নি ,  তিনি এতো বছর  রন্ধ্রে রন্ধ্রে এই জলবায়ুর নমক খেয়েও এখনো দিল্লিকে গ্রহণ করে উঠতে পারেন নাই । না ঘরকা , না ঘাট কা । 

দেহ্‌লিজের জন্ম নিয়ে অনেক উন্মাদনা । দিল্লির পাথরবুকের সজীবতার ছোঁয়া । সুদূর ওমানীয় ধূলিঝড় উড়িয়ে নিয়ে গেলো পল্যুশন, রাজধানী একরকম আর দিলবাজী অন্যরকম, দিল্লির শাহী জলবায়ুতে কলার পুন প্রবেশের মাঝদিয়ে এই ডিজিটাল দৌড়ের সূচনা । তো জাহির, হে এখানে পলিটিক্সের পাশ ঠেলে দাঁড়িয়ে উঠেছে কবিয়ালের দেওয়াল ।

দেহ্‌লিজ, ডোমেনের আশেপাশে গড়ে উঠেছে, প্রথম সংখ্যায় পদার্পণ প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার । লেখক ছিল, ৩৭ জন । সমস্তই দিল্লির আয়োজন বললে তেমন ভুল বলা হয় না ।  দিল্লির লেখকদের বেশীর ভাগ মাইগ্রেটেড ,  কিছু দ্বিতীয় প্রজন্মের, কিছু তৃতীয় প্রজন্মের । আর কিছু পরিযায়ী ।  দিল্লির লেখক কমিউনিটি ডেভেলপ হচ্ছে দ্রুত ।  এর মাঝেই জন্ম নিলো দেহ্‌লিজ, তার ওয়েব এড্রেসের জন্য ডোমেন নেওয়া হল ।

আপনিও বুকমার্ক করে নিন -  http://www.dehlij.com

প্রথম প্রকাশ

প্রথম প্রকাশ ঃ দেহ্‌লিজ



দিল্লিস্থিত রবীন্দ্রভবনে অনুষ্ঠিত রবীন্দ্রজয়ন্তীতে প্রকাশ পেল প্রথম দেহ্‌লিজ । দেহলিজের প্রথম পাতা খুলে দিল্লির কবিতার প্রাণপুরুষ কবি দিলীপ ফৌজদারের হাতে তুলে দেওয়া হয় ট্যাব । কবিতার ফেরিয়ালার মতো ফেরি করে চলেন দিল্লির কবিতা স্বপ্নমালা । দিল্লির লেখকদের মধ্যে ছিলো অন্য উন্মাদনা, রবীন্দ্রনাথের কবিতা, গানের মাঝে দিল্লির কবিদের উজ্বল উপস্থিতি ।




সমস্ত কবি / লেখকদের একে এক ওয়েবসাইটের  ইউ আর এল ( URL : http://www.dehlij.com ) তুলে দেওয়া হয় । পার্টিসিপেশন ছিলো স্বতস্ফউর্ত , সাড়া ছিলো দারুন ।


উল্লাস আর হৈ হৈ দিয়ে যাত্রা শুরু হলো দিল্লির কবিতার ডিজিটাল যুগ । প্রচুর লেখক জুড়ে যাচ্ছেন । দিল্লির দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্মের কবি লেখকেরাও জুড়ে গেছেন দিল্লির বাংলা সাহিত্য গ্রুপে ।






যোগাযোগের জন্য ঃ poet.area@gmail.com এ  মেল করুন । কথা বলা যায় যে দেহলিজ এর কোন সদস্যদের সঙ্গে ।


Tuesday, November 13, 2018

Pijushkanti Biswas

Pijushkanti Biswas



Alloy


If you blow up a paper from a proportion
You can discover a mammal on vegetables
In a dark night of a new moon

With appropriate formula
With a margin of error again and again
It keeps changing of the definition of purity

It means, on any day, it restate that
The metals has a state
And DNA get a geometrical print
The egg keeps dividing itself into millions


From east to west
From home to hospital
To hear a sound of a bell
One need to come to a brass model
There is stored purest form of copper

Please never call my sweetest beloved
As an alloy



Tandoor



You have seen plaster coming out
From a wall whenever there was a tiny mistake
With no margin of error

Yet, doorstep wants the footstep back

You see, the greener side of the jungle
Never call me again and again when you are in red sari
With dashing apples on your front
It just burns the wholesome trees

But, just have a look on this unnamed tree
There is no rain in his luck
We can hardly hear his cry
With blood, with flesh
He is subject to a grill

This is why and how - this is geographic
By walking from one locality to another,
With mankind , city ejects itself out of the map

No one really attached to a city

With clearance of fog of the winter of a demography
In search of foods,
In search of goods,
Delhi ignites itself into a glowing tandoor.

Tuesday, August 14, 2018

পীযূষকান্তি বিশ্বাস

অভিমুখ
পীযূষকান্তি বিশ্বাস


আমারও একটা উত্তরের ইচ্ছা,
আর লা-জবাব দক্ষিণ
কথাটা ফেলতেই
এদিক ওদিক
খিদেটা বিখরে প্রচণ্ড চৌচির


স্কুলের ক্লাসে ঘণ্টা পড়লো কোথাও


পেন্ডুলাম থেকে পেড়ে আনা দোলন
মাকুমানুষের কাছে ফেরী করে যাই
এই শহরের ঘনত্ব আর বিস্তার
বেশ তো আছি ঝুলে,
কিছুটা নির্বাক অফিসবাড়ি,
দিকবিদিক দৌড়ে যাওয়া দেওয়াল ঘড়ি
ছুটিকে সীমানা করে
            এই আমাদের ছুট ছুট

এই মাত্র হ্যাচব্যাক অল্টোকে টপকে গেলো সিডান ভার্না


প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে বেরোল হরিণ ছানা
ওত পেতে থাকা ক্ষিপ্র ভুখা শের
ব্যাং ইট

শুধু গর্দনে
একটা ঝটকার অপেক্ষায় থাকে
অভিমুখ

#



ধাতব জন্ম নিয়ে,
লৌহ বা তাম্রের কোন মায়বাপ নেই
কোন উত্তরাধিকারী

ঘর থেকে ঘর
টেনে বের করে আনা     টান টান স্নেহে
শুধু আবেশের জন্ম দেওয়া আছে
শারীরিক খিদের মত,
চুম্বকের মত টানে

অভিমুখ মানে - লাইন বাই লাইন পড়ে থাকা

আজীবন কোন মায়বাপকে ঘিরে
চক্কর বাই চক্কর কেটে যাওয়া

দক্ষিণ থেকে উত্তরের
উত্তর থেকে উত্তরের


#



এই দিকে যাই
যেদিকে ঘাম জর্জর অনুভূতি নিয়ে
জাগিয়ে রাখে এই গ্রীষ্মের অমাবস্যার কালো

নাকি ওদিকে যাই
যেদিক বৈদ্যুতিক তরঙ্গ ডাকে

নাকি ওইদিক
কাঁটাতারে ঘিরে রাখা আছে কম্পাস
গলা পর্যন্ত উঠে আসা উত্তাপ ও অম্লজান
ঘাড় গুঁজে থাকা অণু-পরমাণুদের নিয়ে

নিঃশব্দে যেখানে
অভিমুখ তৈরি হয়

#

অভিমুখ
দিকবলয়ের আংটি থেকে ঝলসে ওঠা আগুনচিত্র
ওঁত পেতে থাকা কোন ক্ষনস্থায়ী গ্রহণ
কখন যে চাঁদের গায়ে
চাঁদ লেগে যায়

Friday, May 4, 2018

পীযূষকান্তি বিশ্বাস

দিল্লিলিখন

পীযূষকান্তি বিশ্বাস 


আমাকে লিখতে হবে আর এক পৃথিবী
বীজ থেকে শুরু করে তরুরাজির পর্ণমোচী হওয়া
রৌদ্র থেকে চুষে নিয়ে
রসে রসে আপন গোপন অক্ষরে
লিখতে হবে আমায় এক সঞ্জীবনী বানী
পাতায় পাতায় সাংকেতিক বাক্যবন্ধনে
লিখে যেতে হবে আমায় দিল্লির এক বিনির্মাণ কাহিনী ।

এখনো আছে সেই জারণের অদ্ভুত রসায়ন
গলে যাওয়া মুখের ভিতর জিহ্বা কশিকায়
পিচ্ছিল হয়ে এলে বাল্কল সকল
এই চৈত্রে খিল খিলিয়ে
সবুজে সবুজে ঋতুমতী হয়ে ওঠে বুদ্ধজয়ন্তী পার্ক
স্তূপ থেকে জেগে ওঠে পাথুরি খনিজ
আমাকে লিখতে হবে অন্য পৃথিবীর আরাবল্লি রিজ

এক পৃথিবী মানে অনেক রচনা,
অক্ষর বিন্যাস
ধোলাকুঁয়ার উপর দিয়ে মুড়ে যায় যে মেট্রো ট্রেনলাইন
অপলক তাকিয়ে থাকি
ওড়না উড়িয়ে
এই গরমে কলেজ ফেরত কোনো ললনার দ্রুত চলে যাওয়া

কোথাও থেকে তার চুলের খুশবু হাওয়ায় উড়ে আসে
চলন্ত ট্রাফিক থমকে দাঁড়ায় এই তপ্ত শহরে
ঝান্ডেবালান হয়ে ঘূর্ণিপাকে যে ধুলো ঘিরেছে রাজপথ
যে ধুলো কোনোদিন উড়িয়েছিল তীব্র বেগে ধেয়ে আসা
শেরশাহের অশ্ববাহিনী
এতটা সহজ করে লিখতে পারিনি কখনো সুলতানি ইতিহাস
জলের মতো করে বুঝিনি কখনো মুঘলের সাম্রাজ্যবাদী ভাষা
এই যমুনার কৃষ্ণকালো স্রোতে
যখন আমি লিখতে চেয়েছি
কোন এক গুর্জর বালিকাবধুর হারানো কানপাশা ।

এক পৃথিবী লিখতে গিয়ে দেখি উদাসীন পাঠকের মুখ
সান্ধ্যকাল উপনীত হয় সফদরজঙ্গের চুড়ায়
দেখি জ্যোৎস্নার বিবর্ণযাপন
এক পৃথিবী লিখতে গিয়ে দেখি অন্ধকারে ঘনীভূত
পুরানো দিল্লির পণ্যবিপনন
চাঁদনি চক জেগে আছে হারেমের কন্যাদের গোঙানী সমেত
কপাল থেকে খসে পড়ে উপমা সংকেত
কোথাও পৌঁছাতে চায় রাত,
কোথায় চুপ হয়ে যায় ভাষা
কোথাও বাক্যেরা ফুরিয়ে যায় ঠোটে
রিংরোড বরাবর তবু সারি সারি লাইন বাই লাইন
মির্জা গালিবের পঙক্তি জ্বলে ওঠে ।


দেহ্‌লিজ


পা-খানি ওঠাতেই হয়,
পার করতে হলে দ্বার ,
পা'কে হয়ে উঠতে পারদক্ষী
আর যেখানে দরজা আর তার অনতিক্রম্য রেখা
পাকে সুরক্ষিত রাখতে এই তার এতটুকুই অঙ্গীকার
নিজেকে বন্ধ্যা রেখে অংকুর-সম্ভাব্য সেই বীজ
ঘরের সাথে ঘর করে যাচ্ছে সে
                             একান্তে দেহ্‌লিজ ।

হায় দরজা,
এ কিসের অহংকার
নাকি অহরহ গ্রীবার উপরে আটকে থাকা ভয়
                  অলক্ষ্যে চৌকাঠ বেড়ে যাওয়ার ?
একবার পিছন ফিরে যদি দেখো , সংসার
নিজেকে টপকে যাওয়া আর
                        হয়না দরজার ।

এভাবেও কি গণ্ডী এঁকে দেওয়া যায় ?
দৈর্ঘ্যে প্রস্থে বা যে কোন মাত্রায়
             মাইল থেকে মাইল
ভিতরে ভিতরে তবু গোপনে হেঁটে যাওয়া যাত্রায়
আমাদের এইতো বিচরণের সংজ্ঞা ,
এই তো আমাদের জমি, এই তো আমাদের আল
শৈশব থেকে হেঁটে আসা ধ্বনি তরঙ্গের সাথে
ভেঙ্গে যাওয়া        বয়ঃসন্ধি কাল ।

এটাই তো চেয়েছিলে পিতামহ, প্রপিতামহ,
                               সমস্ত পরিবার
দেহের প্রতিটা অঙ্গ কোষকে সুরক্ষা দিতে
বল্কলে ঘিরেছিল পরিধান
ঘরের নিরাপত্তাকে তাই ভেবেছিলো অগ্রাধিকার

নাকি আরও কিছু ছিল গোপন বক্তব্য
অলিখিত কোন সীমানা, কোন মাপজোক
যার জন্য চৌকাঠের হয়েছিল এক বোধ
নিজেই সে উঠিয়েছিল পা
নিজের কর্তব্যকেই সে
                   ভেবেছিলো দরজা

পা,
যে কোন দায়িত্ব বিশেষ
ঘরকে ডিঙ্গিয়ে যেতে চেয়ে
পার করে যেতে চেয়েছিল যে সীমানা
যাকে অধিবাসীরা ভেবেছিলো দেহ্‌লিজ
যাকে অতিক্রম করতে চেয়েছিল ঠিকানা

পার
তো করে যেতে হয় সমস্তকিছু একদিন
কারণ দেওয়ালেরও আছে এক জীবনচক্র
             মৃত্যুরও আছে এক অতীত
জঙ্ঘার ও আছে এক আয়ু,
             সীমানারও আছে এক মিথ

অপার বিশ্বাস,
অপার সীমানা নিয়ে এই বোধ
উদ্যত পা নিয়ে সমস্ত লড়াই
অন্তত: একবার তাই চৌকাঠ ভেঙ্গে
দেহ্‌লিজ পার করে যেতে চাই ।


Facebook Comments